স্পেনের জয়ে বিশ্বকাপ, সমালোচনার মুখে আর্জেন্টিনা

আধিপত্যে শিরোপা স্পেনের, ম্যাচশেষে আর্জেন্টিনার আচরণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক

প্রকাশিত: জুলাই ২০, ২০২৬; সময়: ২:২৫ pm | 
খবর > খেলা

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। তবে ম্যাচের ফলাফলের পাশাপাশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স ও ম্যাচ-পরবর্তী আচরণ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাবেক ফুটবলারদের অনেকেই স্পেনের জয়কে “ফুটবলের জয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

নিউ জার্সির ফাইনালে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক রদ্রি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন।

পুরো ম্যাচে স্পেনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বলের দখলে তারা ছিল ৬৫ শতাংশ এগিয়ে। গোলের সম্ভাব্য মান (এক্সপেক্টেড গোল) ছিল ১.৯৪। স্পেন মোট ২০টি শট নেয়, যার ১১টি ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে আর্জেন্টিনা নির্ধারিত ৯০ মিনিটে লক্ষ্যভেদী কোনো শটই নিতে পারেনি। তাদের প্রথম উল্লেখযোগ্য আক্রমণ আসে ম্যাচের ১১৭তম মিনিটে।

স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমন টুর্নামেন্টে অষ্টম ম্যাচে সপ্তমবারের মতো ক্লিন শিট রেখে গোল্ডেন গ্লাভস জেতেন। পুরো বিশ্বকাপে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করে, যা বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সেরা রক্ষণাত্মক রেকর্ড।

ফাইনালে স্পেনের মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগও ছিল অসাধারণ। রদ্রি ১০১টি এবং তরুণ ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি ১২১টি সফল পাস সম্পন্ন করেন। ১৯ বছর বয়সী কুবারসি টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। একই সঙ্গে লামিনে ইয়ামাল বিশ্বকাপজয়ী ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে নতুন মাইলফলক গড়েন।

অন্যদিকে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ১১টি সেভ করে দলকে দীর্ঘ সময় ম্যাচে টিকিয়ে রাখলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শেষ দিকে এবং শেষ বাঁশি বাজার পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের আচরণ নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়। এনজো ফার্নান্দেজ দুটি হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও নাহুয়েল মোলিনার আচরণ নিয়েও সমালোচনা ওঠে। স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনাও ঘটে।

বিবিসির বিশ্লেষক ও ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার বলেন, “শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্পেনই ভালো খেলেছে। তারাই ম্যাচ জয়ের যোগ্য ছিল।”

সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন রুনি ম্যাচ-পরবর্তী আচরণকে “লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেন। সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও বলেন, আর্জেন্টিনার অভিযোগ করার মতো কিছু নেই এবং ম্যাচশেষের আচরণ ছিল “অত্যন্ত ন্যক্কারজনক”।

তবে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি পরাজয় মেনে নিয়ে স্বীকার করেন, স্পেনই ছিল ফাইনালের সেরা দল। তিনি বলেন, “তারা এই জয়ের যোগ্য, এটাই বাস্তবতা।”

এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন একই সময়ে বিশ্বকাপ, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও অলিম্পিক ফুটবলের শিরোপাধারী হিসেবে নিজেদের আধিপত্য আরও শক্তিশালী করল। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন