সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শনে রাজশাহী চেম্বার নেতারা, দ্রুত চালুর দাবি

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬; সময়: ১০:৪৫ pm | 
খবর > রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর পরিদর্শন করেছেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের নেতৃবৃন্দ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেম্বারের নেতৃবৃন্দের কাছে নৌবন্দর সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। তাই এই পরিদর্শন করেন তারা।

রোববার (১৯ জুলাই) বিকেল চারটায় তারা সরেজমিনে এই নৌবন্দর পরিদর্শন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রিজের সভাপতি হাসেন আলী, সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু সিনিয়র সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন, সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন আহমেদ পরিচালক গোলাম সাকলাইন, আমদানি ও রফতানিকারক আমিনুল ইসলাম।

আমদানি ও রফতানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন যায়গায় গিয়েছি। ফলপ্রসু কিছু পাইনি। দুবাই থেকে আমাদের পাথর আনতে খরচ হয় সাড়ে ১১ লাখ ডলার। সেখানে আবার বড় জাহাজ, কন্ট্রেইনার ভাড়া আছে। ভারত থেকে পাথর নিয়ে আসলে আমাদের খরচ অর্ধেকের বেশি কমে যাবে। এতে সরকার বেশি লাভবান হবে।

তিনি আরও বলেন, নৌবন্দরে সবকিছু প্রস্তুত করা আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যেভাবে চেয়েছিল সেভাবে সবকিছু করা হয়েছে। এখানে মাল খালাস হবে শুধু এরপর ট্রাক এসে নিয়ে চলে যাবে। সড়কও ১৮ থেকে ২০ ফুটের মতো রেডি আছে। কিন্তু চালু হচ্ছে না কেন তা এনবিআর বলতে পারবে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রিজের সিনিয়র সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, আমাদের উত্তরাঞ্চলে কর্মসংস্থানের অভাব। এই নৌবন্দর চালু হবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে। ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবে। আমরা এনবিআরের সঙ্গে দ্রুত চালুর বিষয়ে বসবো।

সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, এই বন্দর চালু হয় ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি। সেসময় এনবিআর মাত্র পাঁচটি লাইটার জাহাজের চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। ওই পাঁচ জাহাজ থেকে আট লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এরপর থেকে বন্ধই হয়ে যায়। এনবিআর বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে যাচ্ছে। এখন সব প্রস্তুত আছে তবুও এর অনুমোদন মিলছে না। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকেও পজিটিভ বলা হয়েছে।

রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাট্রিজের সভাপতি হাসেন আলী বলেন, বাংলাদেশ থেকে আমাদের পাট রফতানি করতে হয় ভারতে। ভারতে পাঠাতে হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। এর পেছনে ট্রাকের ভাড়া দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা। আবার পোর্টের খরচ আছে। এই বন্দর দিয়ে পাট পাঠালে আমরা বেশ উপকৃত হবো।

তিনি বলেন, এনবিআরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। রাজশাহী চেম্বারের কাছে তারা প্রতিবেদন চেয়েছে। এখানে পরিদর্শন করলাম। আমরা প্রতিবেদন পাঠাবো। তবে এই বন্দর চালু হোক আমরা সবাই চাচ্ছি। ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন প্রতিনিয়তই ট্রাক ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে এতে করে পণ্যর দামও বেড়ে যাচ্ছে এই নদী পথটি যদি চালু হয় পণ্যের দাম অনেক কমে যাবে বাড়বে সরকারের রাজস্ব হবে বহু মানুষের কর্মসংস্থান। এই বন্দরটি চালু হলে শুধু সুলতানগঞ্জ মানুষের নয় উন্নয়ন হবে রাজশাহী চারঘাট বাঘা পাবনা ইশ্বরদী সহ সমগ্র উত্তর অঞ্চল মানুষের। এই নদী দিয়ে প্রতিনিয়ত জাহাজ চলাচল করলে নদীর নাব্যতা ফিরে পাবে করতে হবে না ড্রেজিং বাড়তি খরচ বহন করতে হবে না সরকারকে।

দুবাই থেকে আমরা পাথর আমদানি করলে শুধু একটি জাহাজেই কর দিতে হয় ১১ লক্ষ ২৭ হাজার ডলার আর এই বন্দর দিয়ে ওই জাহাজটি পাথর আমদানি করলে খরচ হবে মাত্র সাড়ে ৫ লক্ষ ডলার। এতে করে সরকারের রিজার্ভ ফান্ড অনেকটাই সেভ হয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন রাজশাহীতে বড় সমস্যা হচ্ছে বেকারের এই বন্ধ চালু হলে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। এই নৌপথ চালু হলে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য ছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে যাবে।

এসব পণ্য মূলত বিভিন্ন স্থলবন্দরের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। এতে সময় ও খরচ অনেক বেশি লাগে। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের মাধ্যমে এসব পণ্য ভারত থেকে আমদানিতে সময় ও খরচ কম হবে। এতে উপকৃত হবেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন