রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে কিছু জানি না: স্পিকার

ব্যাংকক সফর শেষে দেশে ফিরে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা

প্রকাশিত: জুলাই ২৪, ২০২৬; সময়: ৩:২৭ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা ও গুঞ্জনের মধ্যে থাইল্যান্ড সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। দেশে ফিরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, তিনি দেশের বাইরে থাকায় রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না।

তিনি বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। এখানে কে পদত্যাগ করলো, কী করলো, আমার কিছুই জানা নেই। এখন হয়তো জানতে পারবো।”

রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া কী হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে স্পিকার জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে।

তিনি আরও বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে এটি সাময়িক ব্যবস্থা। তিন মাসের মধ্যে সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে স্পিকার বলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমে যেটুকু শুনেছেন, সেটুকুই জানেন। রাষ্ট্রপতি আদৌ পদত্যাগ করবেন কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তার ভাষায়, “এটি অনুমাননির্ভর প্রশ্ন। উনি কী করবেন, না করবেন, আমি জানি না।”

নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগে দেশে ফেরার কারণ ব্যাখ্যা করে স্পিকার জানান, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণেই হয়েছে। তিনি বলেন, চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হওয়ায় ২৬ জুলাইয়ের পরিবর্তে ২৪ জুলাই দেশে ফিরে এসেছেন।

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত পত্রের মাধ্যমে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। একই সঙ্গে ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া সংবিধানের ১২৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বাধ্যতামূলক।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তৎকালীন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার প্রায় ৭৮ দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না আসায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন