রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিদায় অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: উৎসবমুখর ও বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী নিউ গভঃ ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ‘নবীনবরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান-২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার (২৪জুলাই) সকাল ১০ টার দিকে কলেজ অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর কাজী রাশেদ করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মতিউর রহমান এবং শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক প্রফেসর ড. মোঃ রাশেদ করিম।
অনুষ্ঠানে অনন্য ভূমিকা পালন করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জনাব মোঃ আব্দুল মতিন। তাঁর বিশেষ দিকনির্দেশনা ও সার্বিক সহযোগিতায় এবং শিক্ষার্থীদের সাথে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও আলোচনার মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পুরো অনুষ্ঠানটি সফলভাবে পরিচালনা করে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোছা: মাহফুজা ইয়াসমিন এবং প্রভাষক জনাব সজীব আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর কাজী রাশেদ করিম শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, “বিবিএ পর্ব শেষ করে তোমরা কেউ এমবিএ করবে, আবার কেউ কর্মজীবনে প্রবেশ করবে। তবে যে যেখানেই যাও, নিজেদের সৎ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। জীবনসংগ্রামে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং চলার পথে একে অপরের পাশে দাঁড়াবে।”
তিনি আরো বলেন নিজের আত্মউন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবনের সকল চ্যালেঞ্জ নিজেরাই মোকাবেলা করার মানসিকতা রাখতে হবে। তোমাদের শিক্ষকেরা সবসময় তোমাদের পাশে আছেন। তোমরা নিজেদের আলোকিত করো, বিশ্বকে আলোকিত করো এবং নিরলস পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ করো।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শিখা সরকার বলেন, “তোমরা সকলে মনুষ্যত্ব বজায় রেখে জীবনের সফলতা অর্জন করবে। ব্যবস্থাপনা নিয়ে পড়াশোনা করেছ, তাই তোমাদের জন্য সব পথ ও সুযোগ উন্মুক্ত। কেবল চাকরিপ্রার্থী না হয়ে অন্যদের জন্য চাকরির সুযোগ বা কর্মসংস্থান তৈরি করার চেষ্টা করবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মতিউর রহমান বলেন, “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া মানেই হতাশা নয়। সঠিক চেষ্টা ও লক্ষ্য থাকলে এখান থেকেও আন্তর্জাতিক ও উচ্চ পর্যায়ে সবার সাথে তাল মিলিয়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব।”
সহযোগী অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, “সংসারের স্বাভাবিক নিয়মে সবাইকে একদিন বিদায় নিতে হয়। অত্যন্ত আনন্দের সাথে তোমাদের এই সংবর্ধনা দিতে পেরে আমরা গর্বিত। শিক্ষকেরা সবসময় বটবৃক্ষের ছায়ার মতো তোমাদের পাশে থাকবে।”
সহযোগী অধ্যাপক মোছা: মাহফুজা ইয়াসমিন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “তোমাদের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা পাশে ছিলাম এবং আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তোমাদের সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।”
প্রভাষক সজীব আহমেদ বলেন, “বিদায় মূলত একটি বিশেষ অনুভূতির নাম। বাস্তব জীবনে যেখানেই থাকো না কেন, কলেজ থেকে অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সফল হওয়াই আমাদের মূল চাওয়া
আলোচনা সভা ও বক্তব্য শেষে অতিথি ও শিক্ষকমণ্ডলী বিদায়ী শিক্ষার্থীদের হাতে বিশেষ স্মারক হিসেবে দৃষ্টিনন্দন স্কেচ (Sketch) তুলে দেন।
শিক্ষক-শিক্ষিকা ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।




