৫ মাস বয়সি শিশুর কমদামি পোশাক কেনায় মায়ের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ৫ মাস বয়সি কন্যা সন্তানের জন্য কমদামি ঈদের পোশাক কেনা নিয়ে স্বামীর উপর অভিমান করে সাবিনা খাতুন (২০) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করে। শনিবার রাতে উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের তালতলা মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সাবিনা ওই গ্রামের দিনমজুর আব্দুল বারেকের নির্মাণ শ্রমিক ছেলে পারভেজ কবিরের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সাবিনা ও পারভেজ সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে প্রায় তিন বছর আগে তাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের আড়াই বছর পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম হয়।
শনিবার দুপুরে ৫ মাস বয়সি কন্যা ইসবাকে নিয়ে তার জন্য ঈদের নতুন পোশাক কিনতে স্থানীয় একটি দোকানে যায় তারা। সেখানে ২০০টাকা মূল্যের জামা কিনে দেয়। এটা নিয়ে ওই দোকানেই তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামীকে রেখে সাবিনা তার মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসে। পারভেজ বাড়ি ফিরে এসে জানতে পাড়ে সাবিনা কন্যা ইসবাকে দুধ খাওয়ানোর কথা বলে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ দিয়েছে।
অন্যদিনের চেয়ে এদিন বেশিদেরী হচ্ছে দেখে তাকে বাড়ির সবাই ডাকাডাকি করেও তার কোন সারা পায়না। পরে পারভেজ তার বাবা-মায়ের ঘরের ফাঁকা জয়গা দিয়ে তাকিয়ে তাকে গলায় ওড়না জড়ানো অবস্থায় চালের তীরের সাথে ঝুলে থাকতে দেখে। এ সময় সে চিৎকার দিয়ে ওই ঘরে ঢুকে ঘরের দরজা খুলে দেয়। পরে প্রতিবেশীদের সাহায্যে পরিবারের সদস্যরা সাবিনাকে নামিয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশ গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্বামীর সঙ্গে অভিমান করে গৃহবধূ সাবিনা আত্মহত্যা করেছে। রাতে লাশটি উদ্ধার করে এনে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ময়নাতদন্তের জন্য রোববার নাটোর সদর হাসপালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে মডেল থানায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে এর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।




