সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অ’পহৃত বৃদ্ধ ও নারী উদ্ধার, আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : মুক্তিপণের অর্থ ও জমি লিখে নেয়ার জন্য সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার সোনারামপুরে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা বৃদ্ধ ও আরেক নারী উদ্ধার হয়েছে। মাটির নিচের থাকা গুপ্ত কক্ষ থেকে নিজেরাই কৌশল করে বের হয়েছেন উপজেলার পাইকরা গ্রামের মৃত রুস্তম শেখের ছেলে জুব্বার হোসেন (৭৫) ও লক্ষিবিষ্ণুপ্রসাদ গ্রামের মনসুর আলীর স্ত্রী শিল্পী খাতুন (৫৫)।
এদিকে অপরণকারী চক্রের মূল হোতা দৈনিক ইনকিলাবের রায়গঞ্জ সংবাদদাতা আরাফাত হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ আরাফাতের বাড়ি ও সেচ পাম্পে বিশেষ পদ্ধতিতে আটকে রাখার জন্য মাটির নিচে গুপ্ত কক্ষের সন্ধান পেয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী নারী, পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, অপহরনকারী চক্রের প্রধান দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদদাতা নাজমুল ইসলাম আরফাতকে আটক করা হয়েছে। এদিকে বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধকারীর বাড়িতে ভাঙচুর আগ্নী সংযোগ করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, নিখোঁজ শিল্পী খাতুন ও আব্দুল জুব্বারকে চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সোনারাম পূর্বপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের পুত্র সুমনের বাড়ীর নিচে বানানো বিশেষ একটি কক্ষে আটক করে একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্র। এরপর তাদের না পেয়ে পরিবারের লোকজন থানায় অভিযোগ দায়ের করে। তবে পুলিশের এর কোন তথ্য পাচ্ছিল না।
ওই নারী ৪ মাস ও বৃদ্ধ ব্যক্তিটি দীর্ঘ ৬ মাস জিম্মি থাকার পর শুক্রবার ভোর রাত ৩টার দিকে কেচি দিয়ে মাটি খুঁড়ে সুরংঙ্গ তৈরি করে তারা বাহিরে বের হয়ে আসে। পরে তারা বাড়ি গিয়ে পরিবারের কাছে বিষয়গুলো খুলে বলে। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা অপরনকারী চক্রের সুমন ও আরাফাতের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুর করে।
অপহৃত শিল্পী খাতুন লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে জানান, তাদের কয়েকজন মিলে অপরণের পর ওই গুপ্ত কক্ষে আটকে রেখে নানাভাবে অত্যাচার হয়ে নির্যাতন করেছে।
এদিকে অপহৃতদের দেয়া তথ্যের পর পুলিশ, সেনাবাহিনী সদস্যরা ঐ গোপন কক্ষের সন্ধ্যান পায়। এসময় চক্রের অন্যতম এক সদস্য নাজমুল ইসলাম আরফাতকে আটক করা হয়। সন্ধান মিলে আরো গোপন কক্ষের।
এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। নিখোঁজ ২ ব্যক্তির পরিবার থেকে এর আগে অভিযোগ দেয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরাফাতকে আটক করা হয়েছে।




