একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শপথ প্রধান উপদেষ্টার

প্রকাশিত: আগস্ট ৫, ২০২৫; সময়: ১:৩৫ pm | 
খবর > জাতীয়

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ৫ আগস্ট মঙ্গলবার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আজ আমরা শুধু অতীত স্মরণ করতে আসিনি, আমরা শপথ নিতে এসেছি-আমরা নিপীড়নের কাছে মাথা নোয়াবো না। আমরা গড়বো একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র, যা সর্বদা জনকল্যাণে কাজ করবে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “৫ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, এটি গণজাগরণের উপাখ্যান, ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তির ঘোষণা এবং জাতির পুনর্জন্মের প্রতীক।” তিনি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের আত্মত্যাগে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও মানুষ গণতন্ত্র ও সুবিচার থেকে বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার।

তিনি বলেন, “২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল দীর্ঘ ১৬ বছরের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তরুণ সমাজ হতাশ হয়ে পড়েছিল। চাকরিতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর বৈষম্যমূলক কোটাপদ্ধতির প্রতিবাদে তারা রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকার সব কিছুকে দমন করতে চেয়েছিল। গুলি চালিয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করেছে, হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা নিতে দেয়নি। এতেই বোঝা যায়, কী ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যে আমরা ছিলাম।”

ড. ইউনূস অভিযোগ করেন, সরকার দেশের প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিল। বিচার বিভাগ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সবখানে সুবিধাভোগী শ্রেণিকে সুবিধা দিয়ে বাকিদের দমন করা হয়েছে। গত ১৬ বছরে বিরোধিতা করলেই মানুষকে গুম, গ্রেফতার কিংবা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

তিনি জানান, শহীদ ও আহতদের সম্মানে সরকার নানা কল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৭৭৫টি শহীদ পরিবারকে ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১৩ হাজার ৮০০ জন আহতকে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ৭৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। সরকার নির্ধারিত সব হাসপাতালে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

অবশেষে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ যেন বৃথা না যায়। তাদের স্বপ্ন পূরণ করতেই আমাদের শপথ-এই দেশ হবে বৈষম্যহীন, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত একটি রাষ্ট্র।”

শেষে তিনি আহ্বান জানান:
“আজকের এই দিনে আমরা প্রতিজ্ঞা করি-আর কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়াবো না। জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে আমাদেরই গড়তে হবে সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন