রাজশাহীতে মামলা করায় সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার জেরে বাদীকে সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নগরের শাহমখদুম আবাসিক এলাকার ৯ নম্বর সড়কে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার সময় কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের বাড়ির সামনে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি ও অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি দেয়। আতঙ্কিত হয়ে তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে এর আগেই অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়।
ভুক্তভোগী খাদিজা অভিযোগ করেন, তার স্বামী আবুল হাসান ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় থাকাকালে ৫-৬ জন ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। তিনি দাবি করেন, তাদের সঙ্গে রাজশাহী মহানগর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত এসআই হারুন অর রশিদের বিরোধ রয়েছে। এর আগে ওই এসআই চাঁদাবাজি, মারধর এবং জোরপূর্বক তার ও তার স্বামীর কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে যান। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার পর থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বাদী আবুল হাসান বলেন, এসআই হারুন অর রশিদ তাদের আত্মীয়। গত ২৮ এপ্রিল বিকেলে চা খাওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে তাকে কয়েকজনের সহায়তায় মারধর করা হয় এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে চাঁদা দাবি করা হয়। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার স্ত্রীকে বাসা থেকে চেকবই আনতে বাধ্য করা হয়। এরপর তার ও স্ত্রীর ব্যাংকের একাধিক ফাঁকা চেক এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনি রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলাটির নম্বর ১৮১ পি/২০২৬ (বোয়ালিয়া) এবং আগামী ২৭ জুলাই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।
আবুল হাসান বলেন, “আত্মীয়তার সুযোগ নিয়ে এসআই হারুন অর রশিদ পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। আমার কাছ থেকে নেওয়া চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।”
অভিযোগের বিষয়ে এসআই হারুন অর রশিদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলেননি।
এ বিষয়ে শাহমখদুম থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে টহল দল ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রাও কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।




