বান্দরবানে পাহাড়ধসের তীব্র শঙ্কা, ৩ উপজেলায় উচ্চ সতর্কতা
লামায় পাহাড়ধসে নিহত ৫; টানা ভারি বৃষ্টিতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ প্রশাসনের

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : টানা ভারি বর্ষণে বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী তিন দিন অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে বান্দরবান সদর, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলাকে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার পর্যন্ত বান্দরবান ও আশপাশের এলাকায় ২০০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে পাহাড়ের মাটি আরও নরম হয়ে ধসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ২১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢালগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় যেকোনো সময় নতুন করে ধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোরে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পৃথক দুটি পাহাড়ধসে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের মো. ইউনুস (৪০), তার স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান রয়েছেন। অপর ঘটনায় আরও এক দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জেলার পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার জানান, ভোররাতে ঘুমন্ত অবস্থায় পাহাড়ধসে চাপা পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করছে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢাল ও বসতিতে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার করা হচ্ছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময়ের ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে গেলে ধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়াই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিনে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে পাহাড়ধস ও সংশ্লিষ্ট দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস, আকস্মিক জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো কাটেনি। এ অবস্থায় জনসাধারণকে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।




