ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় রাবি ছাত্রকে মারধর

প্রকাশিত: মার্চ ১৭, ২০২৩; সময়: ৯:৩৫ অপরাহ্ণ |
ছাত্রলীগের কর্মসূচিতে না যাওয়ায় রাবি ছাত্রকে মারধর

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্মসূচিতে না যাওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার বেলা ১১টায় বিশ্ববদ্যালয়ের শেরেবাংলা ফজলুল হক হলে এ ঘটনা ঘটে।

মারধরে আহত শিক্ষার্থী তাৎক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা বরাবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মারধরে আহত শিক্ষার্থীর নাম সাফায়েত হোসেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শেরেবাংলা হলের ২২১ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী।

অপরদিকে অভিযুক্ত সংস্কৃত বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাইয়ান শাখা ছাত্রলীগের কর্মী এবং রাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর অনুসারী।

মারধরের শিকার সাফায়েত বলেন, সকালে কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য আমাকে ডাকা হয়। আমি কাজ শেষ করেই যাওয়ার কথা বলি। তখন আল আমিন বলে- তোর জন্য কি সবাই বসে থাকবে? এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।

এর জেরে অন্যরা নিষেধ করায় আমি আর তখন কর্মসূচিতে যাইনি। কর্মসূচি শেষ করে রাইয়ান ও তার বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আমিন ও অনিক চন্দ্র দাসসহ চার-পাঁচজন এসে কক্ষের সামনে বেসিনে সবজি পরিষ্কার করার সময় পেছন থেকে আমাকে আবার মারধর করে। আমি হাতে আঘাত পেয়েছি।

একপর্যায়ে আমি দৌড় দিয়ে আমার কক্ষের সামনে চলে যাই। তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং তাদের একজন বলে ‘তোকে দেখে নিব।’ এ অবস্থায় আমি হলে ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা সংকটে ভুগছি।

অভিযুক্ত রাইয়ান বলেন, তাকে কর্মসূচিতে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে কিন্তু সে যাবে না বলে জানায়। এ বিষয়ে বাগবিতণ্ডা হয়।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, কর্মসূচিতে আসা নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়েছে বলে জেনেছি। মারধরের বিষয়টি জানি না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর বলেন, শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট হল প্রাধ্যক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হল প্রাধ্যক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হল প্রাধ্যক্ষ সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে।

হল প্রাধ্যক্ষ ড. হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনার বিষয়ে উভয়পক্ষই আমাকে কিছু না জানিয়ে ছাত্র উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। ছাত্র উপদেষ্টা বিষয়টি আমাকেই দেখার দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি হলে ভুক্তভোগীর কক্ষে গিয়েছিলাম। উভয়পক্ষের কথা শুনেছি। এছাড়া শাফায়েতকে দেখতে রামেকেও গিয়েছি। আশা করি, শিগগিরই এর সমাধান হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে