বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, কুশপুতুল দাহ

প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬; সময়: ১১:৪৬ am | 
খবর > শিক্ষাঙ্গন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর তাকে ডিসিপ্লিন প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক তাসলিমা খাতুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক অধ্যাপক মো. রেজাউল ইসলাম অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান ছিলেন। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এদিকে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং তা অস্বীকার করার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের কুশপুতুলে জুতা নিক্ষেপ ও দাহ করেন। বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। এর আগে বুধবারও ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্রে এক ছাত্রীর পক্ষে অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জারে পাঠানো কথিত উত্ত্যক্তমূলক বার্তার স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবারের সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের দ্বারা হেনস্তার শিকার হলেও অনেক ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া কার্যকর হয় না। তারা সাময়িক নয়, অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিক্ষক মোবাইল ফোন হারানোর কথা বলেছেন। অথচ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলেছেন বলেও দাবি করেন তারা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি ফোন করেও তাকে হেনস্তা করতেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি বিষয়টি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের জানান।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম অভিযোগগুলোকে ‘ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে দাবি করেন।

তার ভাষ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন হারিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখনো ফোনটি উদ্ধার হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, ডিসিপ্লিন প্রধান হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ এবং শিক্ষার্থীদের কিছু অনিয়মে বাধা দেওয়ার কারণে একটি মহল ঈর্ষা ও শত্রুতাবশত তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন