আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিতে গিয়ে নিজেই চিৎপটাং বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিদেশিরা বিএনপির তত্বাবধায়ক সরকার নিরাপেক্ষ সরকারকে সমর্থন করেনি, বিএনপিকে জনগন ইতোমধ্যে লাল পতাকা দেখিয়ে দিয়েছে। যারা মানুষ পোড়ায় তাদের দেশের জনগণ সমর্থন দেবে না।
শুক্রবার বিকেলে রাজশাহীর আড়ানিতে মনমোহিনী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শোক সভায় যোগদিয়ে এ মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি আওয়ামী লীগকে ধাক্কা দিতে গিয়ে নিজেই চিৎপটাং হয়ে পড়ে গেছে। তাদের কমর ভেঙে গেছে।
বিএনপি-জামাতের সমালোচনা করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন দেখে বিএনপি-জামাতের নেতাদের মাথা ঠিক নাই। তাদের মুখে এখন হতাশার সুর। বিদেশিদের কাছে ধরনা দিয়ে কাজ হয় নাই, কয়েকটি পত্রিকার খবর দেখে তাদের চেহারা মলিন হয়ে গেছে। বিদেশিরা তাদের তত্ত্বাবধায়ক ও নির্দলীয় সরকারের দাবি মানে নাই। বিদেশিরা দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন চায়, আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।
হাছান মাহমুদ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার প্রধান কুশীলব দুইজনের একজন খন্দকার মোশতাক, অন্যজন জিয়াউর রহমান। সকালে জিয়া সেভ করছিলেন। এতো সকালে তিনি কোথায় যাওয়ার জন্য সেভ করছিলেন? হত্যার মাধ্যমেই জিয়া পরিবারের উত্থান। জিয়া ঘটিয়েছিলেন ১৫ আগস্ট, আর তার ছেলে তারেক ঘটিয়েছে ২১ আগস্ট।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন এক কোটি মানুষ ভারতে শরনার্থী, দেশের মানুষ বাস্তুচ্যুত। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন করেছেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে আমাদের প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে যেত। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। তাই সব কিছুই থমকে গিয়েছিল। বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছিল।
তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানিরা যখন বুঝতে পেরেছিল তাদের পরাজয় নিশ্চিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্ট খুলে তারা টাকায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল। বৈদেশিক মুদ্রা জ্বালিয়ে দিয়েছিল আর কিছু লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। দেশের যোগাযোগব্যবস্থা বিধ্বস্ত, ব্যাংকে কোন টাকা নেই- এমন পরিস্থিতিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু দেশকে পুনর্গঠিত করে যখন সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাঁকে হত্যা করা হয়।
সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া আমাদের চেয়ে পশ্চাৎপদ দেশ ছিল উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, এখন আমরা মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের কথা শুনি, তাঁরা আমাদের চেয়ে খারাপ ছিল। এখন তারা আমাদের চেয়ে ভালো- এর কারণ হলো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করে অর্থনীতির চাকাকে যখন বেগবান গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল।
দেশের বর্তমান অগ্রগতির কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এখন বাংলাদেশে ছেঁড়া কাপড় পরা, খালি পায়ের কাউকে দেখা গেলে মানুষ ভাবে তার মানসিক কোনো সমস্যা আছে। আজকে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আছে, রাস্তা-ঘাট হয়েছে, গ্রামে-গঞ্জে কুঁড়ে ঘর নাই, সব জায়গায় কমপক্ষে টিনের চালা হয়েছে। এখন বাড়ির ছোটরা চেরাগ, ল্যাম্প, হারিকেন চেনে না- এগুলো এখন ড্রয়িং রুমে সাজিয়ে রাখার মতো জিনিসে পরিণত হয়েছে। এত সব উন্নয়ন শেখ হাসিনার কারণে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শোক সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বেগম আখতার জাহান, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, সংরক্ষিত আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারা প্রমূখ।




