সামনে কঠিন সময়, দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: দেশের সামনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং সময় অপেক্ষা করছে উল্লেখ করে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সতর্ক করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকার পরিচালনা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় দেশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
রোববার বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সামনে একই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। এই সময়ে আমরা যদি দায়িত্বহীনভাবে চলি, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। সেই ক্ষতি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে কারও হবে না, কিন্তু দেশের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হবে।”
ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তারেক রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপির যে ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেখানে শহীদ জিয়ার আদর্শ ও রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব সরকার পালন করবে, তবে সরকারের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে দলীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতার ওপর। সংসদ সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য কিংবা সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের একক প্রচেষ্টায় সব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সংসদে আমাদের ২১৪ জন এমপি এবং মন্ত্রিসভায় আমিসহ ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। শুধু আমরা পরিশ্রম করলেই হবে না, সরকারের সঠিক উদ্যোগগুলো সফল করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।”
বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান দেশের শিক্ষা বিস্তার, শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে যে ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও তার প্রতিফলন রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের শিল্পখাতকে আরও শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বন্ধ কলকারখানা চালু এবং নতুন শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। একই সঙ্গে শিল্পে বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্ন নতুন খাত বিকাশের বিষয়ও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বক্তব্যের একপর্যায়ে বাবার স্মৃতিচারণা করে ১৯৮৬ সালের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মায়ের সঙ্গে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব সফরের সময় এক বিদেশি ব্যক্তি তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে বাংলাদেশ শুনেই “জিয়াউর রহমান” নামটি উচ্চারণ করেছিলেন।
তার ভাষ্য, সে সময় অনেক মুসলিম দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশ ও জিয়াউর রহমান যেন সমার্থক হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি তাঁকে সন্তান হিসেবে গর্বিত করেছিল।
তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর একসময় সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন পরিচিতি লাভ করে।
তিনি দাবি করেন, জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এমন অবস্থানে পৌঁছেছিল, যেখানে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ ও শহীদ জিয়ার নাম একসঙ্গেই উচ্চারিত হতো।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
এ ছাড়া শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন ও রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করেন অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন-এর চেয়ারম্যান মামুন আহমেদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষাবিদরা।
পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে জিয়াউর রহমানের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।




