রাজশাহীতে অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল আ.লীগ

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৩; সময়: ৯:৫৯ অপরাহ্ণ |
রাজশাহীতে অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিল আ.লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : একটি অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নেওয়ার পর সেখানে থাকা স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগ। চলতি বছরের শুরুতে নগরীর রাণীবাজার এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এই জমি জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া হয়। জমির পরিমাণ ১৪ শতাংশ।

এই জমির একাংশে পুরনো একটি বাড়ি ছিল। এই বাড়িটি এখন ভেঙে ফেলা হচ্ছে। চুন-সুরকি আর ইটের গাঁথুনি দিয়ে করা বাড়িটির অর্ধেক ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই বাড়িতে একজন নারী বাস করতেন। জেলা আওয়ামী লীগ জমিটি ইজারা নেওয়ার পর গত ফেব্রুয়ারিতে ওই নারীকে বিতাড়িত করা হয়।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জমিটি তাদের একসনা ইজারা (প্রতি বছর ইজারামূল্য পরিশোধের শর্তে) দেওয়া হয়। ইজারা নেওয়া এই জমিতে স্থায়ী কোনো স্থাপনা করা যাবে না। তবে যে স্থাপনা আছে তা সংস্কার করে ব্যবহার করা যাবে। তবে এখন স্থাপনাটি সংস্কার না করে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, প্রাচীর দিয়ে ঘেরা জমিটির মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে স্থাপনা ভাঙার কাজ চলছে। চারজন শ্রমিক বাড়িটির দেয়ালগুলো ভাঙার কাজ করছেন।

এদের একজন রাজশাহীর বায়া এলাকার রাসেল আলী জানান, গত ৮ দিন ধরে তারা বাড়িটি ভাঙছেন। আরও ৮ দিন লাগবে পুরোপুরি ভাঙতে। এই স্থানে নতুন ভবন হবে বলে তারা জানেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, আমরা নিয়ম মেনে জমিটি ইজারা নিয়েছি। ইজারা শর্তে আছে যে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা না গেলেও আমরা সেখানে একতলা টিনশেড ভবন করতে পারব। আগে থেকে যে বাড়িটি ছিল সেটি অনেক পুরনো, ভেতরে ঢোকা যায় না। তাই সেটি ভেঙে একতলা টিনশেড করা হবে।

ইজারা নেওয়া অর্পিত সম্পত্তিতে স্থাপনা করতেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল ওয়াদুদ দারা বলেন, আমরা যখন ইজারা নিয়েছি, তখনই তো অনুমতি হয়ে গেছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আনিসুল ইসলাম বলেন, অর্পিত সম্পত্তি ইজারা নিয়ে সেখানকার স্থাপনা ভেঙে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর ইজারা নেওয়া অর্পিত সম্পত্তিতেও নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে জেলা প্রশাসনের অনুমতি লাগবে। আমি যোগদানের পর জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো আবেদন পাইনি। জেলা আওয়ামী লীগ কিভাবে কী করছে তা আমি এখনই খোঁজ নেব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে