ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলেকে কুপিয়ে জখম

প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৪; সময়: ১:৫৭ অপরাহ্ণ |
ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলেকে কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক, নাটোর : নাটোরের ছাতনীতে বিয়ের দাওয়াত খেয়ে মোটরসাইকেলে ফেরার পথে দুই শিশু কন্যার সামনে আমজাদ হোসেন সরকার (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। শনিবার (২২ জুন) বিকেলে সদর উপজেলার ছাতনী ইউনিয়নের মাঝদিঘা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আমজাদ হোসেন সরকার ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের ছেলে। পুর্ব বিরোধের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে এলাকাবাসী জানায়। এদিকে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইউপি সদস্য মামুন পাঠানসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো একই এলাকার সোহানুর রহমান কাজল, রবিউল পাঠান ও মো. আলামিন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ছাতনী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজান অনুসারী। অপরদিকে ইউপি সদস্য মামুন পাঠান স্থানীয় এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের অনুসারী।

সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যানের ছেলে আমজাদ সরকার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজানের পক্ষ নিয়ে কাজ করে। এ নিয়ে অপর এক চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থক স্থানীয় ইউপি সমর্থক মামুন পাঠানের সাথে বিরোধ শুরু হয়। এনিয়ে মামুন পাঠান ও আমজাদ সরকারের মধ্যে হামলা ও মামলার ঘটনাও ঘটে।

আমজাদ সরকার শনিবার বিকেলে মামুন পাঠানের বাড়ীর এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়ীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে মামুন পাঠান ও আমজাদ সরকারের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। পরে নিজের দুই শিশু কন্যাকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকারের ছেলে আমজাদ হোসেন সরকার। প্রতিপক্ষরা প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই মেয়ে শিশুর সামনেই তাদের বাবা আমজাদকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। দুই শিশুর কান্নাতেও দমেনি হামলাকারীরা।

এঘনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। থবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে এ ঘটনা আমজাদ হোসেনের বাবা তোফাজ্জল হোসেন সরকার বাদী হয়ে মামুন পাঠান সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করে।

ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সরকার বলেন, দাওয়াত খেয়ে ছেলে আমজাদ আমার দুই নাতনিকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তায় তার পথ রোধ করে অতর্কিত হামলা চালায় মেম্বারের মামুন পাঠন সহ তার লোকজন। স্থানীয়রা আহত আমজাদকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। হামলার ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওই মামলার পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অন্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

 

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
topউপরে