শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৮৭৪৭ পাতার অভিযোগপত্র, ৮১ জন সাক্ষী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঁচটি অভিযোগ দায়ের

প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৫; সময়: ৩:১৬ pm | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: রোববার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ। অভিযোগপত্রসহ প্রমাণাদি নিয়ে মোট পৃষ্ঠা হয়েছে আট হাজার সাতশত সাতচল্লিশ। মামলার প্রমাণ হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৮১ জন।

উল্লেখ্য, মামলায় শেখ হাসিনাকে নির্দেশদাতা হিসেবে আনা হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে আরও রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশ মহাপরিদর্শক (অব.) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

দায়েরকৃত অভিযোগপত্রের বিবরণ

– আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের দৈর্ঘ্য: ১৩৫ পৃষ্ঠা।
– যুক্ত প্রমাণপত্র: ভিডিও, অডিও কলের লিপি, নথিপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত।
– সর্বমোট পৃষ্ঠা: ৮৭৪৭ পৃষ্ঠা।
– স্বাক্ষী সংখ্যা: ৮১ জন।

অভিযোগের সারমর্ম

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গত ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় জানান, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ‘বর্ষা বিপ্লব’ নামে যে আন্দোলন হয়েছিল, তার সময় নির্দোষ মানুষের ওপর ব্যাপক হত্যা–নিপীড়ন চালিয়েছে শেখ হাসিনার নির্দেশে ঘোষণা করা বাহিনী। বিচারককে জানানো হয়, সেই সময় দায়ের করা অভিযোগে অন্তর্ভুক্ত পাঁচ দফা অভিযোগের মধ্যে আছে- নির্বিচারে হত্যা, প্ররোচনা ও উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওই আন্দোলনের সময় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নির্বিচারে এক হাজার চারশোর অধিক মানুষ হত্যার দায় রয়েছে শেখ হাসিনার উপর।” তিনি আরও বলেন, “এই বিচার কোনো অতীতের প্রতিশোধ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য প্রতিজ্ঞা, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত না হয়।”

‘বর্ষা বিপ্লব’-এর পটভূমি

২০২৪ সালের জুলাইতে ঢাকাসহ সারাদেশে বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর ‘বর্ষা বিপ্লব’ কর্মসূচি ছড়িয়ে পড়লে সরকার কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়। সেই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারি দলে অঙ্গসঙ্ঘটিত কর্মী-সমর্থকেরা বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীদের দমনে ব্যাপক চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড চালানো হয়, তাঁদের তালিকা করে গ্রেফতারী অভিযান করা হয় এবং ছোঁড়া গুলি ছোড়া হয়।

ট্রাইব্যুনালে সরাসরি সম্প্রচার

রোববার দুপুরে ট্রাইব্যুনালে যখন অভিযোগপত্র দাখিলের শুনানি শুরু হয়, তখন সেটি সরাসরি সম্প্রচার করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভি। দর্শকরা সেখানে শুনতে পান অভিযোগপত্রে বর্ণিত ঘটনার নানা দিক-কীভাবে প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হয়েছে, সাক্ষীদের বয়ান, আর কত অংশ নথি–প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় প্রসিকিউশন।

বিচার কার্যক্রমের শুরু

এবার যে আদালত শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার শুরু করেছে, সেটি ছিল ১৯৭৩ সালে গঠিত ‘মুক্তিযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধী বিচার ট্রাইব্যুনাল’। তখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে ওই ট্রাইব্যুনাল সৃষ্টি হয়েছিল। এপ্রতিষ্ঠানেই এবার নিজেরই সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসাবে হাজির থাকবেন শেখ হাসিনা।

পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী মাসে। সেই সময়ে ছাত্র-জনতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো যেসব দিক তুলে ধরবেন, তা নজরদারি রাখবেন সকলে। একজন বিশ্লেষক মন্তব্য করেন, “এই বিচার শুধু একটি রাজনৈতিক নাটক নয়; বাংলাদেশের আইনের শাসন দৃঢ় করতে, একই সময়ে আন্তর্জাতিক ইমেজের প্রশ্নেও প্রভাব ফেলতে পারে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন