ইউনূসকে সাক্ষাৎ দিচ্ছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: চার দিনের সরকারি সফরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তবে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাজি হননি নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ব্রিটিশ দৈনিক ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, সাক্ষাতের অনুরোধ করলেও ইউনূসকে সময় দেননি স্টারমার। এমনকি তার সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগও হয়নি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে চুরি হয়ে বিদেশে পাচার হওয়া বিলিয়ন ডলার ফেরত আনতে যুক্তরাজ্যের নৈতিক দায়িত্ব আছে। কারণ তার দাবি, এ অর্থের বড় অংশ যুক্তরাজ্যেই রয়েছে।
তবে সাক্ষাৎ না হলেও স্টারমার এই অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে সহযোগিতা করবেন- এ বিষয়ে ইউনূসের ‘কোনো সন্দেহ নেই’। “এগুলো চুরির টাকা,” বলেন তিনি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমস আরও জানায়, স্টারমারের দপ্তরের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে তারা এ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইউনূস বলেন, যুক্তরাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে সহায়তা শুরু করেছে। আরও আন্তরিক সহযোগিতা পেতেই তার এই সফর।
প্রসঙ্গত, গত বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। এরপর শেখ হাসিনা, তার পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়।
এ তদন্তে বিপাকে পড়েছেন লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকও, যিনি শেখ হাসিনার ভাগ্নি। দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচনার মুখে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
জান গেছে, ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে তাকে চিঠিও লিখেছেন টিউলিপ। তবে ইউনূস সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি টিউলিপের সঙ্গে দেখা করবেন না। বলেন, “এটা আইনগত বিষয়। এখানে ব্যক্তিগত কোনো কিছু নেই।”
তিনি অভিযোগ করেন, “গত ১৬ বছরে শেখ হাসিনা আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। এটা ছিল বড় ধরনের লুটপাট।”
বাংলাদেশ সরকারের হিসাব মতে, শেখ হাসিনার সময়ে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যার বড় অংশই গেছে যুক্তরাজ্যে। এছাড়া কানাডা, সিঙ্গাপুর, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলেও এই টাকার অস্তিত্ব রয়েছে বলে দাবি করেন ইউনূস।
এই সফরকে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের প্রথম ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, তিনি অন্য দেশগুলোতেও যাবেন। যুক্তরাজ্যের ব্যাংক, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকেও সহযোগিতা চাইছেন তারা।
বলেন, “গ্রেট ব্রিটেনের জনগণের সমর্থন আমাদের দরকার।”
এদিকে, ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) গত মাসে শেখ হাসিনার এক ঘনিষ্ঠজনের ছেলের নামে থাকা দুটি বিলাসবহুল লন্ডনের ফ্ল্যাট জব্দ করেছে।




