রাজশাহীতে রেল স্টেশনের কক্ষ দখল করে বিএনপি নেতার ‘পার্টি অফিস’!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কক্ষে চলছে দলীয় সভা, বসানো হয়েছে চেয়ার-টেবিল।

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৫; সময়: ১:৩৫ am | 
খবর > রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রেলওয়ে স্টেশনের একটি কক্ষ দখল করে ‘দলীয় কার্যালয়’ করার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। ওই বিএনপি নেতা একরাম আলী রাজশাহী মহানগর বিএনপির মতিহার থানা শাখার সভাপতি। অভিযোগ রয়েছে, মাসখানেক ধরে ওই কক্ষ রং করে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সেখানে নিয়মিত দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছেন একরাম আলী।

স্টেশনবাজার এলাকার স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত ওই কক্ষটি ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এরপর একরাম আলীর নেতৃত্বে সেখানে দলীয় সভা শুরু হয়। দিনে বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার পর দলীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে জড়ো হন।

গত সোমবার গিয়ে দেখা যায়, টেবিল ঘিরে কয়েকটি চেয়ার। একরাম আলী চেয়ারেই বসা। পাশে ৮-১০ জন নেতা-কর্মী বসা ও দাঁড়িয়ে ছিলেন। কক্ষটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নতুন দরজা লাগানো হয়েছে এবং দেয়ালে রঙও করা হয়েছে।

স্থানীয় একজন চায়ের দোকানি জানান,

আগে কক্ষটি নোংরা ছিল, দরজাও ছিল না। কিন্তু এখন সেটি গোছানো। ওই দোকানির ভাষ্য, “জুলাই আন্দোলনের পর কক্ষটি দখলে নেওয়া হয়। এখন নিয়মিত সেখানে বসছেন তারা।”

ফল বিক্রেতা আরও একজন বলেন, “একদম নতুন দরজা লাগিয়েছে। এখন সেটায় চেয়ার-টেবিল দিয়ে বসার জায়গা বানিয়েছে।”

অভিযোগ প্রসঙ্গে একরাম আলী বলেন, “কক্ষটি মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছিল। আমি সেটা পরিষ্কার করেছি। কেউ দখল করেনি। মানুষজন বসে চা খায়, এতে দখলের কী আছে?”

বিষয়টি জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, “আমি সদ্য যোগ দিয়েছি। বিষয়টি এখনই জানলাম। খোঁজ নিয়ে যদি সত্যতা পাই, নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী হল সংলগ্ন স্টেশনবাজার এলাকায় অবস্থিত স্টেশনটি মূলত শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার্থে চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে এটি প্রায় পরিত্যক্ত। তবে কিছু লোকাল ট্রেন থামে, আর রাতে ছিন্নমূল মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন