গাজায় অনাহারে আরও ১১ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ২১২

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ আগস্ট) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, এ ধরনের কারণে এ পর্যন্ত ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৯৮ জনই শিশু।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৩৮ জন নিহত ও ৪৯১ জন আহত হয়েছেন। এ সময় খাদ্য সহায়তা সংগ্রহের পথে ২১ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সরকার ৭ অক্টোবর থেকে গাজা সিটিতে পূর্ণ সামরিক অবরোধ শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর আগে দুই মাসের মধ্যে শহরটির আনুমানিক ১০ লাখ বাসিন্দাকে দক্ষিণাঞ্চলে সরিয়ে নেওয়া হবে, যা গাজার মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক। যুদ্ধের আগে গাজা সিটিতে প্রায় ৬ লাখ মানুষের বাস থাকলেও সংঘাত শুরুর পর সেখানে আশ্রয় নিয়েছে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ।
ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনায় গাজা যুদ্ধ শেষ করতে পাঁচটি ‘মূলনীতি’ তুলে ধরা হয়েছে, যার একটি হলো গাজা অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। তবে এ পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহল, কিছু ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা ও বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচনার জবাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, এতে তাদের সংকল্প দুর্বল হবে না।
যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক নরম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, গাজা সম্পূর্ণ দখল করা হবে কি না, তা “প্রায় পুরোপুরি ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত”।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, গাজার এই পরিকল্পনা ইতোমধ্যেই চরম কষ্টে থাকা মানুষের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনবে। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেখানে ইতোমধ্যেই “দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি” তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত মে মাসের শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত বিতর্কিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) কেন্দ্র চালুর পর খাদ্য সংগ্রহের পথে ১,৩৭৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৫৯ জন নিহত হয়েছেন জিএইচএফ কেন্দ্রের কাছে এবং ৫১৪ জন খাদ্যবাহী বহরের পথে। জাতিসংঘ বলছে, নিহতদের অধিকাংশকে ইসরায়েলি সেনারা হত্যা করেছে, যদিও জিএইচএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।




