রাকসু নির্বাচন: ছাত্রদল চায় হাতে ভোট গণনা, শিবির চায় ওএমআরে

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৫; সময়: ১১:৪৮ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

প্রান্ত কুমার দাশ, রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট গণনা পদ্ধতি নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়ে ছাত্রদল ম্যানুয়াল ভোট গণনার (হাতে গণনা) দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে দ্রুত ফলাফলের জন্য অত্যাধুনিক ওএমআর (অপটিক্যাল মার্ক রিডার) পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) এসব দাবি জানিয়ে প্যানেল দুটি পৃথক স্মারকলিপি জমা দেয়।

ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ৬ দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ, সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনাসহ ৬ দফা দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ছাত্রদল মনোনিত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের প্রার্থীরা। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে এ স্মারক লিপি জমা দেন।

ছাত্রদলের ৬টি দাবি হলো- ভোট গ্রহণে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স নিশ্চিতকরণ, ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভোট গণনা, ভোট সম্পৃক্ত ব্যাতীত অন্য কেউকে কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে আসতে না দেওয়া, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রক্ষার্থে কালো টাকার প্রভাব প্রতিরোধ এবং সকল প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী আচরণবিধি মনিটরিং এর মধ্যে আনা।

ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী শেখ নূর উদ্দিন (আবির) বলেন, ‘ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে (হাতে) ভোট গণনা করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু জনবল বাড়ালে সময় কমানো সম্ভব। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট জনবল আছে। এই দাবিগুলো শুধু ছাত্রদলের নয়। এটা আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেই জানিয়েছি। আমরা ওয়ার্নিং দিয়ে বলতে চাই, আমাদের দাবিগুলো মেনে নিন। তা না হলে ছাত্রদল না; সাধারণ শিক্ষার্থীরাই আপনাদের (নির্বাচন কমিশন) নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে।’

শিবির সমর্থিত প্যানেলের ৭ দাবি

রাকসু নির্বাচনে ত্রুটিমুক্ত ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা ও ভোটকেন্দ্রে সিসি টিভিসহ ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছেন ইসলামী ছাত্র শিবির সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের প্রার্থীরা। বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বের) বিকেল পৌনে ৫ রাকসু কোষ্যাধ্যক্ষ কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা এই স্মারকলিপি দেন।

তাদের ৭টি দাবি হলো- পোলিং এজেন্টদের প্রবেশাধিকার ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ হতে যাবতীয় সুবিধা নিশ্চিত করা; সাংবাদিকদের জন্য পৃথক আইডি কার্ডের ব্যবস্থা রাখা এবং কেবল প্রশাসন অনুমোদিত সাংবাদিকদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার প্রদান করা; ত্রুটিমুক্ত ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা এবং বিশেষজ্ঞ টিম রাখা; তবে কোনো প্রার্থী মেশিনে প্রযুক্তিগত সমস্যা নিয়ে আপত্তি করলে ম্যানুয়ালি ভোট গণনার ব্যবস্থা রাখা; প্রতিটি ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা; ভোটের দিন ক্যাম্পাসে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা এবং নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন প্যানেলের প্রার্থীরা। প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে জাকসু নির্বাচনে দেখেছি নির্বাচনে ফলাফল আসতে তিনদিন সময় নিয়েছে। আমাদের এখানে ভোট কয়েকগুন বেশি। এতে আমাদের এখানে ফলাফল পেতে এক সপ্তাহ সময় লেগে যাবে। ফলে এখানে ত্রুটিমুক্ত ওএমআর মেশিনে ভোট গণনা করতে হবে। তবে কোনো প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে তা ম্যানুয়ালি থাকলে চেক করতে হবে।’

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন