শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশিত: অক্টোবর ৮, ২০২৫; সময়: ৩:৪৫ pm | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও নাগরিকদের গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলার অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক ভিন্নমত, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও লেখকদের তুলে নিয়ে টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল ও জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গোপনে বন্দি রেখে নির্যাতন চালানো হতো। এসব ঘটনার ভয়াবহ বিবরণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

প্রথম মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে টিএফআই সেলে অপহরণ, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

অন্যদিকে, জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুম ও নির্যাতনের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় শেখ হাসিনাসহ আরও ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বেশ কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, যেমন লে. জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, তৌহিদুল ইসলাম, সরওয়ার হোসেন ও কবির আহাম্মদ প্রমুখ।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, সংশোধিত আইন অনুযায়ী, যারা এখনো কর্মরত আছেন, তারা বিচারাধীন অবস্থায় কোনো সরকারি পদে থাকতে পারবেন না।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হন। তাদের মধ্যে অনেকের এখনো সন্ধান মেলেনি, আবার অনেকে হত্যার পর নিখোঁজ হন। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী মুক্তি পেয়ে এসব নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দেন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতেই দুটি মামলা হয়, যা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন