মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার ফাঁসির আদেশ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২৫; সময়: ৩:০৯ pm | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন। মামলার পাঁচ অভিযোগের মধ্যে দুইটিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আসাদুজ্জামান খান ও চৌধুরী মামুনের বিরুদ্ধেও পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামুন সত্য উন্মোচনে সহায়তা করায় তার শাস্তি কমানো হয়েছে।

সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার পাঠ করে রায় ঘোষণা শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলাটি ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ১৭ অক্টোবর প্রথম শুনানিতে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সহআসামি হিসেবে যুক্ত করা হয় এবং একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দাখিল করা হয়। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচ অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ১২ মে ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে। মোট ৮ হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্রে দালিলিক প্রমাণ, জব্দতালিকা ও শহীদ তালিকাসহ বিস্তারিত বিবরণ ছিল।

১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেয় এবং ১০ জুলাই শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। বিচার চলাকালে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন এবং ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করে। পরে তিনি আদালতে সাক্ষ্য দেন।

গত ২৩ অক্টোবর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। চিফ প্রসিকিউটরও একই দাবি জানান। রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন আসামিদের খালাস চান। যুক্তিতর্ক শেষে ১৩ নভেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ ও ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্র আওয়ামী কর্মীরা হামলা চালিয়ে দেড় হাজার মানুষকে হত্যা ও ২৫ হাজারকে আহত করে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূলের নির্দেশ দেন তিনি। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আইজিপির মাধ্যমে সব বাহিনীর কাছে এ নির্দেশ পৌঁছে তা বাস্তবায়িত হয়। অডিও রেকর্ডেও এ নির্দেশের প্রমাণ পাওয়া যায়।

তৃতীয় অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; চতুর্থ অভিযোগে রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং পঞ্চম অভিযোগে আশুলিয়ায় ছয়জনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান ও চৌধুরী মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন