যেসব কারণে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায়

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৮, ২০২৫; সময়: ১২:০৯ am | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: জুলাই আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার ট্রাইব্যুনাল-১ -এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায়ে বলা হয়, গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার সঙ্গে শেখ ফজলে নূর তাপস এবং পরবর্তী সময়ে হাসানুল হক ইনুর কথোপকথনে উঠে আসে- আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয়ে ড্রোন ব্যবহারের নির্দেশ এবং হেলিকপ্টার ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে দমন করার নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। তাঁর অধীনস্থরা এ নির্দেশ প্রতিরোধে কোনো বাধা দেননি।

এ কারণে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয়জন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই দিনে আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে নিহত ছয়জনের লাশ পরে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এসব ঘটনাসহ তিনটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে।

অপরদিকে সাবেক পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত বলেছে, মামলার সত্য উদঘাটনে তাঁর সহযোগিতা, স্বীকারোক্তি ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকার কারণে সাজার ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের সব ধরনের সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হবে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহতদের পরিবারকে উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের আঘাতের মাত্রা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগে রয়েছে- উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা, রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জন আন্দোলনকারীকে হত্যা, আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে ফেলা।

এ ছাড়া গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে সম্বোধন করে উসকানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে কথোপকথনে আন্দোলনকারীদের ‘ফাঁসি’ দেওয়ার হুমকি, এবং অধীনস্থদের অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতা- এসব ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আদালতকক্ষে উপস্থিতদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দিলে প্রধান প্রসিকিউটর তাঁদের আদালতের শৃঙ্খলা বজায় রাখার অনুরোধ জানান।

রায়ের পর প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম বলেন, পাঁচটি অভিযোগকে ছয়টি কাউন্টে ভাগ করে বিচার করা হয়েছে। নৃশংসতা, গুরুত্ব ও আইনি দায় বিবেচনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানকে তিনটি কাউন্টে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি কাউন্টে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে রাজসাক্ষী হওয়ায় আল-মামুনকে পাঁচ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন