আত্রাইয়ে রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব
হুমকিতে কৃষি ও গ্রামীণ জনপথ

নাজমুল হক নাহিদ, আত্রাই: উত্তর জনপদের শস্যভান্ডার খ্যাত নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ফসলি জমি থেকে রাতের আঁধারে অবাধে মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শুকিয়ে যাওয়া খাল-বিল ও ফসলের মাঠ থেকে ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে বাণিজ্যিকভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ, কৃষি জমি ও গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর মারাত্মক হুমকি তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি উপজেলার জগদাস, শিকারপুরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের বদলে রাতের অন্ধকারে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার ‘মহোৎসব’ চলছে। এসব মাটি ড্রামট্রাক ও অনুমোদনহীন ট্রাক্টরের মাধ্যমে ইটভাটা ও মাটি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন স্পটে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভারী যান চলাচলের কারণে উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।
মাটি পরিবহনের সময় রাস্তায় প্রচুর মাটি পড়ে থাকছে, যা শীতের কুয়াশায় কাদায় পরিণত হয়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাটি ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, নগদ টাকার লোভ দেখিয়ে অসাধু চক্র সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে এবং আসন্ন বোরো মৌসুমে কৃষকেরা চরম ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, ফসলি জমির টপসয়েল কেটে ফেললে জমির মারাত্মক ক্ষতি হয়। টপসয়েল মাটির সবচেয়ে উর্বর স্তর, যা জৈব ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ। সাধারণত মাটির ওপরের ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি অংশই এই স্তর। এটি নষ্ট হলে জমি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম জানান, রাতের আঁধারে মাটি উত্তোলনের বিষয়ে আমরা তথ্য পেয়েছি। এতে একদিকে কৃষি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে ভারী যান চলাচলের কারণে গ্রামীণ রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। জনস্বার্থ ও কৃষি জমি রক্ষায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, মাটি ও বালু ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষি জমি থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা নিয়মিত মাঠ ও বাজার মনিটরিং করছি। যারা সাধারণ কৃষকদের প্রলোভন দেখিয়ে টপসয়েল কেটে নিচ্ছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।




