ফয়সাল যেন বলির পাঁঠা না হয়: হাদির বোন

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তার বোন মাসুমা হাদি। তিনি বলেন, শুধু একজনকে শাস্তি দিয়ে যেন মূল পরিকল্পনাকারীদের আড়াল করা না হয়।
মাসুমা হাদি বলেন, “পুরো গ্যাং যেন সামনে আসে এবং জড়িত সবাইকে বিচারের আওতায় আনা হয়। শুধু ফয়সাল যেন বলির পাঁঠা না হয়। ফয়সালের ফাঁসি দিয়ে অন্যদের আড়াল করা হলে তা কখনোই ন্যায়বিচার হবে না।”
হাদি হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাস পর প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন-কে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। গত শনিবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
তবে ফয়সাল গ্রেপ্তার হলেও পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় হাদির পরিবার। মাসুমা হাদি বলেন, ফয়সাল একজন শুটার হলেও এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা নির্দেশ দিয়েছে, কে অর্থ জুগিয়েছে এবং কারা তাকে সহায়তা করেছে—এসব বিষয়ও তদন্তে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
জুলাই অভ্যুত্থান ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসা হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগে গেলে মোটরসাইকেলে থাকা এক আততায়ী চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাদির ওপর হামলার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা করেন। পরে মামলাটিতে হত্যা ধারা যুক্ত হয়। তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি-সহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই পরিকল্পিতভাবে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট নয় ইনকিলাব মঞ্চ। মামলার বাদী নারাজি দিলে আদালত নতুন করে তদন্তের দায়িত্ব দেয় ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট-কে।
মাসুমা হাদি আরও বলেন, ফয়সাল ও আলমগীরকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
ঝালকাঠির একটি মাদ্রাসা শিক্ষকের ছেলে হাদি প্রথমে নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তি হন। শিক্ষকতা করেছেন সাইফুরস-এ এবং সর্বশেষ ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস-এ।
মৃত্যুর পর তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর সমাধির পাশেই দাফন করা হয়।




