রাজশাহীতে আইসিইউ সংকটে বাড়ছে শিশুমৃত্যু
হাসপাতালের দুটি শিশু ইউনিটে বর্তমানে প্রায় ৭৫০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে, যেখানে শয্যা আছে মাত্র ১৬০টি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) তীব্র সংকটে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত দুই সপ্তাহে আইসিইউ সুবিধা না পেয়ে চিকিৎসাধীন ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সকালেও শিশু ওয়ার্ডে আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় ছিল আরও ৪১ শিশু।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রামেকে বর্তমানে ৪০ শয্যার একটি আইসিইউ ইউনিট চালু রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি শিশুদের জন্য নির্ধারিত, বাকিগুলো প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্ক রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে এই আইসিইউ ইউনিটটি দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় শয্যা সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত।
চিকিৎসকরা বলছেন, রাজশাহী ছাড়াও খুলনা ও রংপুর বিভাগ থেকে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের এই হাসপাতালে আনা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় আইসিইউ সেবা না পাওয়ায় অনেক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে সাধারণ ওয়ার্ডেই।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের ইনচার্জ ডা. আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, ১০ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত আইসিইউতে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে ৪৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বজনরা আগেই সিরিয়াল দিয়ে রাখেন। কিন্তু সিরিয়াল এলে অনেক সময় জানাতে হয়, ততক্ষণে শিশুটি আর বেঁচে নেই।
তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রায় অর্ধশত শিশু আইসিইউ বেডের অপেক্ষায় থাকে। শুক্রবার সকালে চারজন শিশুকে আইসিইউ থেকে সাধারণ ওয়ার্ডে সরিয়ে নেওয়ার পর নতুন চারজনকে ভর্তি করা হয়। এরপরও অপেক্ষায় ছিল আরও ৪১ শিশু।
এদিকে, রাজশাহীতে শিশু চিকিৎসা উন্নয়নে নগরের টিবি পুকুর এলাকায় প্রায় ৩৫ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘রাজশাহী শিশু হাসপাতাল’ এখনও চালু হয়নি। ২০০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে ১২টি শিশু আইসিইউ শয্যা থাকার কথা থাকলেও জনবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে তা অচল রয়েছে। একইভাবে রামেক হাসপাতালের জন্য পরিকল্পিত ২০ শয্যার শিশু আইসিইউ ইউনিটও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবল সংকটে দুই বছর ধরে চালু করা সম্ভব হয়নি।
ডা. মোস্তফা কামাল বলেন, শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এবং রামেকে নতুন আইসিইউ ইউনিট কার্যকর করা গেলে বর্তমান সংকট অনেকটাই কমে আসবে। এতে অকাল মৃত্যু থেকেও বহু শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ উল ইসলাম বলেন, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে হাসপাতালকে সক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি সেবা দিতে হচ্ছে।
তিনি জানান, হাসপাতালের দুটি শিশু ইউনিটে বর্তমানে প্রায় ৭৫০ জন রোগী ভর্তি রয়েছে, যেখানে শয্যা আছে মাত্র ১৬০টি। এদের মধ্যে অন্তত ৫ শতাংশ শিশুর আইসিইউ প্রয়োজন হয়, অর্থাৎ প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন পড়ে।
সংকট নিরসনে নতুন একটি পাঁচতলা ভবনে ৫০ শয্যার আইসিইউ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম পাওয়া গেলে দ্রুতই এটি চালু করা সম্ভব হবে।




