‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির সবাই গুপ্ত জামায়াত’ মন্তব্যে তোলপাড়

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২৬; সময়: ১:১৭ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশিদের এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বকে নিয়ে তাঁর করা মন্তব্যকে দলটির নেতারা ভিত্তিহীন, অযৌক্তিক ও কুরুচিপূর্ণ বলে দাবি করেছেন।

শনিবার (৩০ মে) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটুহল মিলনায়তনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা ছাত্রদল আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন হারুনুর রশিদ।

বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমানে দায়িত্বে থাকা নেতাদের সবাই ‘গুপ্ত জামায়াত’। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের কেউই দলের পক্ষে কাজ করেননি।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানান হারুনুর রশিদ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু নেতা-কর্মী বিভিন্ন সময়ে শিবগঞ্জে সড়ক অবরোধ ও মশাল মিছিলে অংশ নিয়েছেন। একই সঙ্গে নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে রেলপথ অবরোধ ও মশাল মিছিলের ঘটনাও উল্লেখ করেন।

একপর্যায়ে তিনি বলেন, “আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, চাঁপাইনবাবগঞ্জে দায়িত্বে যারা ছিল, একজনও বিএনপির পক্ষে ভোট করেনি।” এ সময় সভায় উপস্থিত কিছু নেতা-কর্মী ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন বলে জানা গেছে।

তবে হারুনুর রশিদের এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেলা বিএনপির নেতারা।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, “জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি তারেক রহমানের নির্দেশনায় গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে আমরা সক্রিয় ছিলাম। অথচ হারুনুর রশিদ অতীতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হারুনুর রশিদ আবারও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়াও হারুনুর রশিদের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, “হারুনুর রশিদ অতীতে নিজেই বলেছিলেন, জেলা কমিটি বলে কিছু নেই। এখন সেই কমিটিকেই লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন।”

তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হারুনুর রশিদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিক হতাশা থেকেই এমন বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হারুনুর রশিদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে দলীয় অঙ্গনে আরও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন