সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ফ্ল্যাটে মিলল ২০ লাখ টাকার ঘড়ি ও শত শত কোট-টাই

দুদকের অভিযানে মিলল কোটি টাকার সম্পদের আলামত; উদ্ধার হলো দামি ঘড়ির নথি, শত শত কোট-টাই ও বিলাসবহুল গাড়ির চাবি

প্রকাশিত: জুলাই ১৯, ২০২৬; সময়: ৯:২৪ pm | 
খবর > রাজনীতি

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : আদালতের নির্দেশে সম্পদের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের অংশ হিসেবে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, দামি ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ড, শত শত কোট-টাই, মূল্যবান আসবাব ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করে সম্পদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়। বিপুল পরিমাণ সামগ্রী থাকায় ইনভেন্টরির কাজ শেষ না হওয়ায় তা পরদিনও অব্যাহত থাকবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে ৩০০টির বেশি কোট, ৫৩২টির বেশি টাই, ১০০টির বেশি দামি শার্ট, তিন সেট মুক্তার গয়না, চারটি ঝাড়বাতি, খাট, সোফাসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাব উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া রোলেক্সসহ আটটি বিলাসবহুল ঘড়ির খালি প্যাকেট এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ারেন্টি কার্ডও পাওয়া গেছে।

উদ্ধার হওয়া ওয়ারেন্টি কার্ডের একটি থেকে জানা যায়, ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের একটি **Rolex Cellini Date** মডেলের ঘড়ি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হারডস ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে কেনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ঘড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০ লাখ টাকারও বেশি।

অভিযানে আরও পাঁচটি বিলাসবহুল গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি বিএমডব্লিউ গাড়ির চাবিও রয়েছে।

দুদক জানায়, আদালতের নির্দেশে গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটের সঠিক নিয়ন্ত্রণ, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সম্পদের তালিকা প্রস্তুতের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমান।

এর আগে আদালত সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আটটি দেশে থাকা বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি প্রতিষ্ঠানে করা বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সম্পদের হিসাব ও মালিকানার তথ্য যাচাই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন