পাবনায় প্রতারণার অভিযোগে বিএনপি নেতাকে গণপিটুনি

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা : পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভিজিডি কার্ড, টিউবওয়েল, ল্যাট্রিন ও সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা তাকে গণপিটুনি দিয়ে দড়ি বেঁধে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
শুক্রবার রাতে পৌর শহরের ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন অন্তত ৩০ জন ভুক্তভোগী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভাঙ্গুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত সোহেল রানা উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন সোহেল রানা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলার রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা, পারভাঙ্গুড়া ও ভাঙ্গুড়া বাজার এলাকার অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেন তিনি। কাউকে ভিজিডি কার্ড, কাউকে টিউবওয়েল, আবার কাউকে সরকারি ঘর বা ল্যাট্রিন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও দীর্ঘ সময় পার হলেও কেউ এসব সুবিধা পাননি।
রাঙ্গালিয়া গ্রামের তায়জাল হোসেন বলেন, “সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। কয়েক মাস পার হলেও কোনো ঘর পাইনি। বারবার তাগাদা দিয়েও কোনো ফল না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছি।”
আরেক ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, “সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্ড পাইনি। পরে জানতে পারি, আরও অনেকের কাছ থেকেও একইভাবে টাকা নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়রা জানান, প্রতারণার অভিযোগে ক্ষুব্ধ কয়েকজন ভুক্তভোগী শুক্রবার রাতে ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সোহেল রানাকে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে দড়ি দিয়ে বেঁধে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে সোহেল রানার স্ত্রী শিখা খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, “লোকজনের কাছে আমার স্বামী টাকা নিয়েছে, বিষয়টি সবাই জানে। এখন যারা টাকা দিয়েছেন, তাদের পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সরদার জাফর ইকবাল হিরোক বলেন, “তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। দল কোনো ব্যক্তির অনিয়মের দায় নেবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, “ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




