রাজশাহীতে বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২৬; সময়: ১:১৫ pm | 
খবর > রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি জমি দখল ও বালুমহাল নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন গোদাগাড়ী উপজেলার ৬ নম্বর মাটিকাটা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এহসানুল কবির টুকু।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর জিরো পয়েন্ট এলাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বলে দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে এহসানুল কবির টুকু বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দখল, নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি জমি দখল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণসহ তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে, সেসবের পক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার সম্পৃক্ততা এবং সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ সম্পূর্ণ আইন ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী হয়েছে। অ্যাডহক কমিটি গঠন, সভাপতির দায়িত্ব পালন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে সম্পন্ন হয়েছে। নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও তিনি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

এহসানুল কবির টুকু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় শিক্ষা, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত একটি পক্ষ ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও দাবি করেন, সরকারি জমি দখল, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম কিংবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে একপাক্ষিক ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। প্রয়োজন হলে নিজের সুনাম রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে অভিযোগ করা হয়, গোদাগাড়ীর প্রেমতলী অঞ্চলে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বালুমহাল নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে এহসানুল কবির টুকুর নাম জড়িয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় যুক্ত হয়েছেন এবং কিছু প্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এসব অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন এহসানুল কবির টুকু।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন