কক্সবাজারে পাহাড় ধসে নারী-শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু

টানা বর্ষণে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও শহরে বিপর্যয়; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়ার আহ্বান প্রশাসনের

প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬; সময়: ৪:১১ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : টানা ভারী বর্ষণের ফলে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত পৃথক ঘটনায় উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ৮ জন এবং কক্সবাজার শহরে ১ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

সর্বশেষ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের (৫০) বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে তিনি ও পরিবারের আরও দুই সদস্য মাটিচাপা পড়েন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুই সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী শহরে পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রাতভর পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত হয়েছেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩)। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

এর আগে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। একই রাতে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন