রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রস্তুতি সম্পন্ন, অপেক্ষা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার
স্পিকারের দেশে ফেরায় জোরালো আলোচনা, ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে সংবিধান অনুযায়ী

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে বঙ্গভবনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তবে শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত তার পদত্যাগপত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর বা স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার বিষয়টি সম্পন্ন হয়নি।
বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিদেশে থাকায় তা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।
এদিকে চিকিৎসা শেষে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই শুক্রবার দুপুরে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
স্পিকার বলেন, **“আমি দেশের বাইরে ছিলাম। আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি। দেশে ফিরে এখন বিষয়টি জানতে পারব।”** তিনি জানান, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হওয়ায় আগেই দেশে ফিরেছেন।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয়। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তাকে সম্ভাব্য বিদায়ের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। ফলে পদত্যাগের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ সংক্রান্ত তথ্যকে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।




