নওগাঁয় ঘুষ বাণিজ্যের খবর প্রকাশে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডি

প্রকাশিত: মার্চ ২৭, ২০২৬; সময়: ১০:৩১ am | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী: নওগাঁর বদলগাছীতে ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে মিঠু হাসান নামে এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান। গত ১৮ মার্চ সংবাদটিকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তিনি এ জিডি করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এর আগে ‘৩ হাজার টাকার ফোনে ঘুষ দাবি ৪ হাজার’ শিরোনামে বদলগাছী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে অংশ নেন ‘আজকের পত্রিকা’র বদলগাছী উপজেলা প্রতিনিধি মিঠু হাসানসহ একাধিক সাংবাদিক।

প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ এপ্রিল স্মার্টফোন হারানোর ঘটনায় বিউটি বেগম নামে এক নারী বদলগাছী থানায় জিডি করেন। চলতি বছরের ১৫ মার্চ তাকে ফোন করে থানায় ডেকে নেন আজিজার নামে এক উপপরিদর্শক (এসআই)। ফোনটির অবস্থান শনাক্তের কথা জানিয়ে তা উদ্ধারে ৪ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানালে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি।

এদিকে, ওসি লুৎফর রহমান দায়ের করা জিডিতে উল্লেখ করেন, পূর্বে একই ঘটনায় অন্য এক এসআই তদন্ত করেছিলেন এবং ‘আজিজার রহমান’ নামে কোনো এসআই থানায় কর্মরত নেই। প্রাথমিকভাবে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জিডিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিক মিঠু হাসান যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মিঠু হাসান বলেন, তথ্য-প্রমাণ যাচাই করেই সংবাদ প্রকাশ করেছেন তিনি। জিডির মাধ্যমে তাকে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর হস্তক্ষেপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে ওসি লুৎফর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে জানা যায়, তিনি ছুটিতে রয়েছেন।

বদলগাছী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে জিডির বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এটি ওসি করেছেন কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত নন।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রয়োজনে পুলিশ জিডি করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট জিডিতে ভাষাগত ত্রুটি রয়েছে এবং ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি জিডি করার সুযোগ নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, অভিযোগ ওঠার পরপরই সংশ্লিষ্ট এসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন