তিন ফসলি জমিতে সোলার পার্ক, ক্ষতিপূরণ না পেয়ে বিক্ষোভে কৃষক

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২৬; সময়: ৪:৪৯ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা : পাবনার সুজানগরে তিন ফসলি কৃষিজমিতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণকে ঘিরে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত দেখিয়ে প্রায় ২০৬ একর উর্বর কৃষিজমি ইজারা দেওয়া হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তারা জমি ও আয়ের প্রধান উৎস হারিয়েছেন। ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে কিছুই পাননি বলে দাবি তাদের।

জানা গেছে, উপজেলার সাগরকান্দি ইউনিয়নের পদ্মা নদীতীরবর্তী রামাকান্তপুর গ্রামে বাংলাদেশ-চায়না যৌথ মালিকানাধীন বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি কোম্পানি লিমিটেড (বিসিআরইসিএল) ৬৪ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। প্রায় এক হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ প্রকল্পের জন্য ২০২১ সালে প্রায় ২০৬ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজপত্রে জমিগুলোকে অকৃষি ও পরিত্যক্ত হিসেবে দেখানো হলেও বাস্তবে সেগুলো ছিল অত্যন্ত উর্বর তিন ফসলি কৃষিজমি। পদ্মার ভাঙনে একসময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়া এসব জমি পরে চর জেগে উঠলে স্থানীয় কৃষকেরা সেখানে ধান, ভুট্টা, পাট, সরিষাসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ করতেন। বছরে তিনবার পর্যন্ত ফসল উৎপাদন হতো এসব জমিতে।

ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, জমি অধিগ্রহণের সময় ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নের পর তারা কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ পাননি। প্রতিবাদ করায় অনেককে হয়রানিমূলক মামলায়ও জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। ফলে জমি হারিয়ে জীবিকা সংকটে পড়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতায়ও ভুগছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

সম্প্রতি জমির ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে সোলার পার্কের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা। তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এখন তারা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ অথবা বিকল্প খাস জমি বন্দোবস্তের দাবি জানাচ্ছেন।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে কৃষকদের মালিকানা না থাকায় সরাসরি জমির মূল্য বা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারি খাস জমি বরাদ্দের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অন্যদিকে সোলার পার্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, সব ধরনের সরকারি নিয়ম ও বিধি অনুসরণ করেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে।

তবে উন্নয়নের এই বৃহৎ প্রকল্পের সুফলের পাশাপাশি জীবিকা হারানো কৃষকদের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তাও এখন আলোচনায় উঠে এসেছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন