জীবিতকে ‘শহীদ’ দেখিয়ে হত্যা মামলা, মূল আসামি শেখ হাসিনা

প্রকাশিত: জুন ১, ২০২৫; সময়: ৪:১২ pm | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার এক ব্যবসায়ী মো. সোলায়মান হোসেন সেলিম অভিযোগ করেছেন, তাকে জীবিত থাকা সত্ত্বেও ‘নিহত’ দেখিয়ে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে।

মামলায় আরও রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪১ জন এবং অজ্ঞাত পরিচয়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী।

সেলিম দাবি করেন, মামলাটি করেছেন তাঁরই বড় ভাই গোলাম মোস্তফা ওরফে মস্তু। পারিবারিক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকেই এই ‘ষড়যন্ত্রমূলক মামলা’ সাজানো হয়েছে বলে তাঁর সন্দেহ।

তিনি বলেন, ‘‘আমাকে যদি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা যেত, তাহলে মামলার আসামিরা বিনা অপরাধে জেলে যেতেন। এটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা একটি ষড়যন্ত্র।’’

ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৩ আগস্ট ঢাকার কাজলা এলাকায় গুলিতে সেলিম নিহত হন। অথচ তিনি জীবিত এবং ফুলবাড়িয়ার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে সেলিম থানায় উপস্থিত হয়ে জীবিত থাকার প্রমাণ দেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সেলিমের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মামলার আরও দু’জন সাক্ষীর নামও সেলিমের ভাইদের নামের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় তদন্তে জটিলতা তৈরি হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অধীনে তদন্তাধীন।

সেলিম বলেন, ‘‘জীবিত মানুষকে যদি কেউ মৃত দেখিয়ে হত্যা মামলা করে, তার চেয়ে বড় বিপদ আর কিছু হতে পারে না। এটা শুধু পারিবারিক ষড়যন্ত্র নয়, বরং তদন্ত ও বিচারব্যবস্থার দুর্বলতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ।’’

তিনি আরও জানান, তিনি অন্তত পাঁচবার ঢাকায় গিয়ে আদালত, থানা ও গোয়েন্দা দপ্তরে হাজির হয়ে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করেছেন। এরপরও মামলাটি তাঁকে আতঙ্কে রেখেছে। গ্রামজুড়ে এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

মানবাধিকার কর্মীদের উদ্বেগ

এই ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা। অধিকারের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন বলেন, “জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনের পটভূমিতে একজন জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে মামলা করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য নয়, বরং বিচারপ্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার এক ঘৃণ্য উদাহরণ।”

তিনি আরও বলেন, “মিথ্যা মামলা দিয়ে আসল হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার ব্যাহত হবে। সত্যিকারের শহীদদের অসম্মান করা হবে। এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।”

মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভুয়া হত্যা মামলা শনাক্ত করতে একটি স্বাধীন টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। তারা চায়, প্রতিটি ঘটনার পেছনের প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক।

সোলায়মান সেলিমের ‘ভুয়া মৃত্যু’ ও হত্যা মামলা শুধু একটি ব্যক্তির জীবনে বিভীষিকা নয়, এটি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার বাস্তব চিত্রকেই সামনে এনে দেয়। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে এমন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। তথ্যসূত্র- বিবিসি বাংলা

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন