শঙ্কাকে সঙ্গী করেই ভোটের মাঠে রাকসু প্রার্থীরা

অমীমাংসিত পোষ্য কোটা ইস্যু ও শিক্ষকদের কর্মবিরতির আশঙ্কা এখনও কাটেনি।

প্রকাশিত: অক্টোবর ৬, ২০২৫; সময়: ৬:১০ pm | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

প্রান্ত কুমার দাশ, রাবি: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) আবারও প্রাণ ফিরেছে রাকসু নির্বাচনে। পূজার ছুটি শেষে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় সরব হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। রোববার সকাল থেকেই প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রচার-প্রচারণায়, ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন তারা।

তবে এই উৎসবমুখর আবহেও ভর করেছে শঙ্কা; অমীমাংসিত পোষ্য কোটা ইস্যু ও শিক্ষকদের কর্মবিরতির আশঙ্কা এখনও কাটেনি। ফলে ১৬ অক্টোবরের নির্বাচনের আগেই অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

ক্যাম্পাসের টুকিটাকি চত্বর, পরিবহন মার্কেট, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে প্রচারণার জোয়ার বইছে। বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থীরা লিফলেট বিতরণ করে নিজেদের ইশতেহার তুলে ধরছেন। তবে ছুটির পরও অনেক শিক্ষার্থী এখনো না ফেরায় প্রচারণা কিছুটা মন্থর।

প্রার্থীরা বলছেন, ৩৪ বছর পর রাকসু নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া মিলছে। কিন্তু পোষ্য কোটা এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মবিরতির আশঙ্কা তাদের মনেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা বলেন, “নির্বাচনের আগে তারিখ পরিবর্তন ও পোষ্য কোটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসায় ভোট নিয়ে শঙ্কা রয়েই গেছে। তবে শিক্ষার্থীরা রাকসু চায়, এটা তাদের প্রাণের দাবি।”

‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী নাফিউল জীবন বলেন, “দুর্গাপূজার পর ভোটের তারিখ নির্ধারণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে ফিরছেন। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত।”

সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী সামসাদ জাহান বলেন, “রাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীরাই এটিকে নিজেদের হাতে ফিরিয়ে আনবে।”

এদিকে তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন দাবি ও আন্দোলনের কারণে এখন পর্যন্ত ছয়বার পরিবর্তিত হয়েছে ভোটের সময়সূচি। সর্বশেষ ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক শিক্ষার্থী পর্ষদ’-এর ভিপি প্রার্থী ফুয়াদ রাতুল বলেন, “শিক্ষক-কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি ৯ অক্টোবরের পর আবার শুরু হবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। সবকিছু মিলিয়ে রাকসু নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা কাজ করছে।”

‘রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেহেদী মারুফ বলেন, “শিক্ষকদের একতরফা তদন্ত কমিটি ও কর্মবিরতির হুমকি রাকসুর আকাশে কালো মেঘ তৈরি করেছে। আশা করি, প্রশাসন দায়িত্বশীল আচরণ করবে।”

পোষ্য কোটা আন্দোলনের নেতা মোক্তার হোসেন বলেন, “আমরা চাই সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাকসু নির্বাচন হোক। প্রশাসনের আন্তরিকতা থাকলে নির্বাচন বাধাহীন হবে।”

জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর। তবে রাকসু নির্বাচন নির্ধারিত সময়েই হবে বলে আশা করছি।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এফ নজরুল ইসলাম জানান, “নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। কর্মবিরতি না হলে ১৬ অক্টোবর ভোটগ্রহণে কোনো বাধা থাকবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, “শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। এখন আর কর্মসূচির আশঙ্কা দেখছি না। ১৬ অক্টোবরের নির্বাচনে কোনো বাধা থাকবে না।”

তবে পোষ্য কোটা ইস্যুতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের মধ্যে গত মাসে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ফলে রাকসু নির্বাচন সামনে রেখে উৎসবমুখর আবহেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চাপা শঙ্কা বিরাজ করছে।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন