পদ্মায় বালু উত্তোলন নিয়ে দুগ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিতে বিএনপি কর্মী নিহত

প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬; সময়: ৪:০৫ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনার সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মঞ্জু শেখ (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বিএনপির দাবি, নিহত মঞ্জু দলটির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী জোতকাকুরিয়া কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান।

নিহত মঞ্জু শেখ সদর উপজেলার আড়িয়া গোহাইলবাড়ি গ্রামের দারোগ শেখের ছেলে। তিনি সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ এবং চরতারাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ রহমত আলীর ভাতিজা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জোতকাকুরিয়া কলাবাগান এলাকার পদ্মার চরে অবৈধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবারও এ নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শুক্রবার সকালে বালুর অবস্থান নিশ্চিত করা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মঞ্জু শেখ নিহত হন। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সুজানগর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শেখ আব্দুর রউফ অভিযোগ করেন, চরতারাপুর ও ভাঁড়ারা এলাকার একটি পক্ষ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করলে তাঁর ভাতিজাসহ কয়েকজন বাধা দেন। এ সময় প্রতিপক্ষ গুলি চালালে মঞ্জু শেখ নিহত হন। তিনি দাবি করেন, মঞ্জু বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজিনূর রহমান বলেন, “বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন