জেলা সেরা হয়ে জাতীয় মঞ্চে বাঘার তিন উদ্ভাবক

প্রকাশিত: জুন ২৭, ২০২৬; সময়: ১০:৪৫ pm | 
খবর > রাজশাহী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বাঘা: উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের পর এবার জাতীয় পর্যায়ের ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ অংশ নিতে চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তিন মেধাবী শিক্ষার্থী। আগামী সোমবার (২৯ জুন) ঢাকার চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এই জাতীয় আয়োজন।

জাতীয় মঞ্চে অংশ নিচ্ছেন বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক, আকাশ আহমেদ ও ইয়াসির ইকবাল মাহি। গ্রাম থেকে উঠে আসা এই তিন শিক্ষার্থী নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে সাফল্য অর্জন করে এখন জাতীয় পর্যায়ে রাজশাহীর প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন।

তাদের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন’ এবং ‘ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ উপজেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনের পর জেলা পর্যায়ে রাজশাহীর নয়টি উপজেলার প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জায়েদুর রহমান তাদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন।

উদ্ভাবক শিক্ষার্থীরা জানান, ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন’-এর মাধ্যমে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে মাত্র ১০ সেকেন্ডে অ্যাসাইনমেন্ট, আবেদনপত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি প্রিন্ট করা যাবে। এতে গ্রামের শিক্ষার্থীদের প্রিন্টিং-সংক্রান্ত ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।

অন্যদিকে ‘ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ফলাফল, বেতন সংক্রান্ত তথ্য এবং অভিভাবকদের এসএমএস নোটিফিকেশন একই প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে, যা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও সহজ ও কার্যকর করবে।

জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক মতিউর রহমান ও আব্দুল হানিফ মিয়া। এছাড়া বাঘা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফরও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো এ বৃহৎ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “বাঘার এই তিন শিক্ষার্থী প্রমাণ করেছে, মেধার জন্য শহর-গ্রামের কোনো বাধা নেই। গ্রামীণ প্রেক্ষাপট থেকে উঠে এসে তারা জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি আমাদের উপজেলার জন্য গর্বের। আশা করছি, তাদের উদ্ভাবন জাতীয় পর্যায়ে সবার নজর কাড়বে এবং বাঘা বিজয়ের মুকুট নিয়েই ফিরবে।”

শিক্ষার্থী এনামুল, আকাশ ও মাহি বলেন, “আগামী সোমবার আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আমরা বাঘার প্রতিনিধিত্ব করব। জাতীয় পর্যায়ে ভালো ফল করে বাবা-মা, শিক্ষক এবং বাঘাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।”

তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষক আব্দুল হানিফ মিয়া জানান, জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলো তাদের স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করবে। সেখান থেকে সেরা ১০টি দল নির্বাচন করা হবে। বিজয়ী শিক্ষার্থীরা পাবেন ২০ হাজার টাকা ও সনদ এবং বিজয়ী শিক্ষকেরা পাবেন ৩০ হাজার টাকা ও সনদ।

শাহদৌলা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমাদের কলেজের তিন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে অংশ নিচ্ছে, এটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন