প্রস্তুত কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া আখড়া

প্রকাশিত: মার্চ ৩, ২০২৩; সময়: ৩:১১ pm | 
খবর > আঞ্চলিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়া বাড়িতে আগামী কাল শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনের দোল উৎসব ও গ্রামীণ মেলা।

এ আয়োজনকে ঘিরে ছেঁউড়িয়ায় মরা কালিগঙ্গা নদীর তীরের আখড়া বাড়িতে এখন সাজ সাজ রব। ইতিমধ্যে এ উৎসবের সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে আয়োজকরা। শনিবার সন্ধ্যায় এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।

মরমি সাধক ফকির লালন সাঁইজি জীবদ্দসায় শিষ্যদের নিয়ে দোল পূর্ণিমায় ছেঁড়িয়ার কালীগঙ্গা নদীর তীরে সারা রাত ধরে তত্ব কথা আলোচনা ও গান বাজনা করতেন। আজ আর কালী গঙ্গায় স্রোত নেই, মানুষ তাই নাম দিয়েছে মরাকালী গঙ্গা। তবে নদীর স্রোত থেমে গেলেও সাঁইজির ভক্তরা থেমে যাননি।

তাঁর মৃত্যুর পরও ভক্ত-শিষ্যরা এ বিশেষ দিনটি পালন করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এ উৎসবে যোগ দিতে এরই মধ্যে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বাউল তীর্থভূমি ছেঁড়িয়ার আখড়া বাড়িতে ছুটে এসেছেন সাধু-গুরু, বাউল, ভক্তরা। ছোট দলে ভাগ হয়ে দরদ ভরা গলায় গেয়ে চলেছেন লালনের গান।

আবার কেউ বা মেতে উঠেছেন গুরুবাদি বাউল ধর্মের নিগুড় তত্ব কথার আলোচনায়। এসেছেন দেশ বিদেশের নানা বয়সি দর্শনার্থী। এ আয়োজনে যোগ দেয়ার জন্য বাউলদের কোন চিঠি দেয়া হয় না, জানানো হয় না নিমন্ত্রণ। তারপরও এক অদৃশ্য সুতোর টানে এরা দলে দলে ছুটে আসেন এ বাউল ধামে।

আখড়া বাড়ির আঙ্গিনায় বসার জায়গা হবে না বলে অনুষ্ঠান শুরু ১০ দিন আগেই এসে আসন পেতেছেন সিরাজগঞ্জের লালন ভক্ত ষাটোর্ধ্ব কলিম শাহ। আলাপকালে এই প্রবীন বাউল সাধক বলেন, বছরে দুবার সাঁইজর বারামখানায় সাধু-গুরুদের মিলন মেলা বসে।

এই দিন আসলে কিছুতেই বাড়িতে মন টেকে না। সংসারের সব মায়ার সুতো ছিঁড়ে চলে আসেন আখড়া বাড়ি, গত ৩০ বছর ধরে এমনটায় করে আসছেন কলিম শাহ।

আরেক বাউল সাধক ফকির জিল্লু শাহ বলেন, আগে আসলে সাঁইজির মাজারের কাছাকাছি বসার জায়গা মেলে। আবার অনেক দিন ধরে এখানে কাটানো যায়। এর যে কি আনন্দ, কি স্বাদ তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

এদিকে ৩দিনের এ স্মরণোৎসবের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শেষ করেছে লালন একাডেমি। এছাড়া এ উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন