প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় শেখ হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২৫; সময়: ১২:২২ pm | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক: প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে করা তিনটি দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বিজিবিও মোতায়েন ছিল।

গ্রেপ্তার একমাত্র আসামির যুক্তিতর্ক শেষে রায়

গত রোববার রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজকের রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তিনি এই মামলাগুলোতে কারাগারে থাকা একমাত্র আসামি ছিলেন। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।

দুদক প্রসিকিউটর খান মো. মাইনুল হাসান (লিপন) জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করা হয়েছিল। তবে আসামি খুরশীদ আলমের আইনজীবীর দাবি, দুদক অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

ছয় মামলায় ৭০ জনের বেশি আসামি

গত জানুয়ারিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্লট বরাদ্দে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক ৬টি মামলা করে। এসব মামলায় শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, রেহানার মেয়ে ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও রাজউকের কর্মকর্তারা আসামি হন।

এই মামলাগুলোতে বিভিন্ন সময় তদন্ত শেষে মোট ৬৮ জনের বেশি ব্যক্তি অভিযুক্ত হিসেবে আদালতে অভিযোগপত্রভুক্ত হন।

অভিযোগের সারসংক্ষেপ

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচল আবাসিক প্রকল্পের ২৭ নম্বর সেক্টরে অযোগ্য হয়েও ১০ কাঠা করে প্লট বরাদ্দ নেন। তদন্তে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও রাজউক সংশ্লিষ্টদের সংশ্লিষ্টতারও প্রমাণ পাওয়া যায়।

তিন মামলার অভিযোগ গঠন

গত ৩১ জুলাই বিশেষ জজ আদালত-৫ তিন মামলায় শেখ হাসিনাসহ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বাকি তিন মামলার অভিযোগ গঠন করেন বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক মো. রবিউল আলম।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন