দুর্গাপুরের বিএনপি নেতার বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল, দলে তোলপাড়

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২৬; সময়: ২:৩৬ am | 
খবর > রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, দুর্গাপুর : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম সাকলায়েনের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তাকে বিএনপিকে ‘স্বৈরাচারী দল’ আখ্যা দিতে এবং দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটির সত্যতা, বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও সময়কাল যাচাইয়ের দাবিও উঠেছে।

দীর্ঘদিন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করা গোলাম সাকলায়েন বর্তমানে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি ২০১১ সালে দলীয় সমর্থনে দেলুয়াবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলেও বিজয়ী হতে পারেননি।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনীতিতে তুলনামূলক কম সক্রিয় হয়ে ব্যবসায় মনোনিবেশ করেন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া প্রায় ৩ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে গোলাম সাকলায়েনকে বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগের মতো বিএনপিও নিঃসন্দেহে একটি স্বৈরাচারী দল। আমাকে চ্যালেঞ্জ করতে চাইলে কেউ করুক, আমি প্রমাণ করে দেব বিএনপি স্বৈরাচারী দল।’

ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ একটু বেশি, বিএনপি একটু কম। বিএনপি যে স্বৈরাচারী দল নয়, তা কিন্তু নয়।’

এছাড়া ভিডিওতে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম, নেতৃত্ব এবং ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ নিয়েও তিনি কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে ‘জাত ব্যবসায়ী’ উল্লেখ করে ব্যবসায়িক স্বার্থে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চলতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, কোথায় এবং কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে- তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতারাও নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।

এদিকে, গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণ, পুকুর খননসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি তদন্ত বা আদালতের রায়ের তথ্যও পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে গোলাম সাকলায়েনের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তার ব্যবসায়িক কার্যালয়েও যোগাযোগ করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জোবায়েদ হোসেন বলেন, ‘দলকে নিয়ে শুধু বিরূপ মন্তব্যই নয়, কুরুচিপূর্ণ শব্দও ব্যবহার করা হয়েছে। এটি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান আয়নাল বলেন, ‘এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হওয়ায় উপজেলা কমিটির পক্ষে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আশা করছি, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শ করে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ ও সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতা বলেন, ‘ভিডিওটি কোন সময়ের এবং কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটি আগে যাচাই করা প্রয়োজন। তবে যে পরিস্থিতিই হোক, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়- এমন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন