রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের সামনেই নির্মিত হচ্ছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’

প্রকাশিত: জুলাই ১৭, ২০২৫; সময়: ১১:৪১ am | 
খবর > বিশেষ সংবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের সামনের খোলা জায়গায় দ্রুতগতিতে নির্মিত হচ্ছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’। বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে নির্মাণ কাজ চলতে দেখা গেছে।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, ২০ জুলাইয়ের মধ্যেই নির্মাণ সম্পন্ন করে আগামী ৫ আগস্ট স্মৃতিস্তম্ভটি সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মাণ করা হচ্ছে ঠিক সেই স্থানেই, যেখানে আগে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে বঙ্গবন্ধুর একটি বিশাল ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছিল। ৫৮ ফুট উচ্চতা ও ৪০ ফুট প্রস্থের ওই ম্যুরালটির দু’পাশজুড়ে প্রায় ৭০০ বর্গফুট এলাকাজুড়ে টেরাকোটায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

তবে গত বছরের ৫ আগস্ট সরকারের পতনের পর সেই ম্যুরালটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিটি সাদা রঙ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, যদিও বাকি অংশ এখনো অক্ষত রয়েছে।

রাজশাহী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল ইসলাম জানান,

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের ৬৪ জেলাতেই ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজশাহীতে স্মৃতিস্তম্ভটির উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ ফুট এবং নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ লাখ টাকা।

তিনি বলেন, “স্মৃতিস্তম্ভে রাজশাহীর গেজেটভুক্ত পাঁচজন শহীদের নাম এবং ১৯ জুলাইয়ের ছাত্র ও জনতার আন্দোলনের জনপ্রিয় স্লোগানগুলো স্থান পাবে।”

এ বিষয়ে মন্তব্য করেন রাজশাহী জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং সদ্যঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মো. নাহিদুল ইসলাম সাজু। তিনি বলেন, “এই জায়গাটি প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় সহজেই সবার নজরে আসবে। তাই সবাই এই স্থানকেই উপযুক্ত মনে করেছেন।”

তিনি আরও বলেন, “যদিও স্থানটি কিছুটা বিতর্কিত, সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ হচ্ছে। ভবিষ্যতে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের কথাও চিন্তাভাবনায় রয়েছে।”

রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, “জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই জায়গাটি নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা বিকল্প জায়গাগুলোর পর্যালোচনাও করেছি, তবে সর্বসম্মতভাবেই এই স্থানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন