প্রাথমিকে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগে বাধা কটল

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২৬; সময়: ১:৫১ pm | 
খবর > আইন-আদালত

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে এসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধির অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল মঞ্জুর করেন।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, আপিল বিভাগের রায় সরকারের পক্ষে এসেছে। ফলে হাইকোর্টের আগের রায় আর বহাল থাকছে না। আইন অনুযায়ী সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা বহাল থাকবে এবং জাতীয়করণ করা বিদ্যালয় থেকে আসা শিক্ষকদের অবস্থান হবে পরবর্তী পর্যায়ে।

তিনি বলেন, এই মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রায় ৩২ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয়নি। অনেক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সরকার স্থায়ী নিয়োগ ও বদলির কার্যক্রম চালাতে পারেনি। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের ফলে সেই জটিলতা দূর হবে এবং প্রধান শিক্ষক নিয়োগসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর অধিগ্রহণ করা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক (চাকরির শর্তাদি) বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। এর আগে জাতীয়করণের জন্য ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচন করে সরকার পরবর্তীতে সেগুলো জাতীয়করণ করে।

পরে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ২০১৭ সালে বিধিমালার ৯(১) বিধির অংশবিশেষ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারির পর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১১ মার্চ হাইকোর্ট ওই বিধির অংশবিশেষ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেন।

এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করলে ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ তা গ্রহণ করেন এবং হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। পরে ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল দায়ের করে। একই সঙ্গে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও আপিল বিভাগে আবেদন করেন। সব পক্ষের শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করে চূড়ান্ত রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক, আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ ও অজিত শীল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন ও মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার।

পদ্মাটাইমস ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন